গ্যাস্ট্রো ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ -

গ্যাস্ট্রো ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ

গ্যাস্ট্রো ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ পরিপাকতন্ত্রের একটি রোগ যা নিম্ন ইসোফেজিয়াল স্ফিংটারকে প্রভাবিত করে । গ্যাস্ট্রো ইসোফেজিয়াল বলতে পাকস্থলী ও ইসোফেগাস কে বোঝায় । ‌রিফ্লাক্স অর্থ ফিরে আসা । অর্থাৎ গ্যাস্টো ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স বলতে পাকস্থলীতে বিদ্যমান বিষয়বস্তু ইসোফেগাসে ফেরত আসা বুঝায় ।

কারন :

স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়ায় নিম্ন ইসোফেজিয়াল স্ফিংটার খুলে গিয়ে খাদ্যকে পাকস্থলীতে প্রবেশ করতে অনুমতি দেয় এবং স্ফিংটারটি বন্ধ হয়ে পাকস্থলীতে বিদ্যমান খাদ্য ও অ্যাসিডিক রসকে ইসোফেগাসে পনরায় ফিরে আসতে বাধা প্রদান করে ।কিন্তু গ্যাস্ট্রো – ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজে নিম্ন ইসোফেজিয়াল স্ফিংটার দুর্বল হয়ে যায় এবং ইসোফেগাসের মিউকোসা বা শ্লেষ্মা দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস্ট্রো – ডিওডেনাল বা পাকস্থলী ও ডিওডেনাম থেকে ফেরত আসা উপাদান দ্বারা আক্রান্ত হয় বা সংস্পর্শে আসে , যার ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন লক্ষন দেখা দেয় এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইসোফেজাইটিস বা অন্ননালীর প্রদাহ দেখা দেয় ।

GERD এর জন্য দায়ী ফ্যাক্টর বা প্যাথো – ফিজিওলজি :

১। স্থুলতা বা Obesity ।
২। খাদ্যে বিদ্যমান চর্বি বা ফ্যাট , চকলেট , অ্যালকোহল , কফি ।
৩। ইসোফেগাস বা অন্ননালী ক্রুটিপূর্ণভাবে খালি বা শূন্য হওয়া ।
৪। নিম্ন ইসোফেগাস স্ফিংটারের অস্বাভাবিক ( ছন্দ কমে যাওয়া অসঙ্গত শিথিলকরণ ) ।
৫। অ্যাবডোমেন মধ্যস্থ চাপ বৃদ্ধি ।
৬। হায়াটাস হার্নিয়া ।

লক্ষন:

১। বুক – জ্বালা পোড়া এবং খাবার ওগরানো ।
২। মুখে থুথু আসা ।
৩। পেটে তীক্ষ্ণ ব্যথা , শয়নরত অবস্থায় বা সামনের দিকে ঝুঁকে থাকলে ব্যথা আরো বাড়ে ।
৪। রোগী প্রায়ই স্থুল হয়ে থাকে ।
৫। খাবার গেলার সময় যন্ত্রণা বা ঢোক গিলতে কষ্ট হওয়া ।
৬। বুকের চাপা ব্যথা , যা তীব্রও হয়ে যেতে পারে , অ্যনজাইনার মতোও হয়ে যেতে পারে এবং এটি রিফ্লাক্স এর ফলে সংগঠিত ইসোফেগাসের খিঁচুনির কারনেও হতে পারে ।
৭‌ বমি বমিভাব বা বমি ‌।
৮‌। রাতের বেলায় প্রচুর কাশি ।
৯। ঘুম ঠিক মত না হওয়া ।
১০। হাঁপানি থাকলে তা বেড়ে যেতে পারে ।

জটিলতা সমূহ:

১। অন্ননালীর প্রদাহ ।
২। বেরেট’স ইসোফেগাস ।
৩। রক্তস্বল্পতা ।
৪। বিনাইন ইসোফেজিয়াল স্ট্রিকচার।
৫। গ্যাস্ট্রিক ভলভুলাস অর্থাৎ পাকস্থলীর অস্বাভাবিক পরিবর্তন ।

পরামর্শ :

১। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ।
২। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণ করতে হবে ।
৩। প্রচুর পানি পান করতে হবে ।
৪‌। একেবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খেতে হবে ।
৫। ভাজাপোড়া , ফাস্টফুড ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে ।
৬। বুকে জ্বালাপোড়া তৈরি করে এমন খাবার বা পানীয় পরিহার করতে হবে।
৭। রাতে ঘুমাতে যাবার কমপক্ষে ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে শেষ করতে হবে ।
৮। ধূমপান বর্জন করতে হবে ।
৯। ঘুমানোর সময় মাথা উঁচু করে প্রয়োজন অনুসারে কমপক্ষে ৪ – ৬ ইঞ্চি উঁচু বালিশ ব্যবহার করতে হবে।

চিকিৎসা:

syp. Carmina 2+0+2
S.Endemali 1+0+1
J. Bisbasa1+0+1
J.Jalinoos1+0+1

Hakim Md. Abdur Rashid
D.U.M.S Dhaka
Hamdard Laboratories (Waqf) Bangladesh
Mobile: 01866508440

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *