আইবিডি কি ? রোগের কারন লক্ষন ও চিকিৎসা

আইবিডি কথাটি পরিপাকতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ জনিত বিভিন্ন রোগের অবস্থা বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয় ‌। এটি দুই প্রকার –

১। আলসারেটিভ কোলাইটিস এ অবস্থায় বৃহদান্ত্র ও রেকটাম এর অন্তঃত্বকে দীর্ঘকালীন প্রদাহ ও ক্ষত তৈরি হয় ।
২। ক্রোনস ডিজিজ এ ধরনের আইবিডি পরিপাকনালীর আবরনের প্রদাহ জনিত অবস্থা হিসেবে দেখা দেয় , যা প্রায়ই আক্রান্ত টিস্যুর গভীর পর্যন্ত ছড়িয়ে যায় ‌।
আইবিডি কখনও দুর্বল আবার কখনও জীবন নাশক সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ।

কারন:

আইবিডি এর প্রকৃত কারণ জানা যায়নি । তবে জেনেটিক জন্মগত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে । পূর্বে খাদ্যাভাস ও মানসিক চাপকে এর কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হত, কিন্তু এখন জানা গেছে যে , এ ফ্যাক্টর গুলো আইবিডি বাড়িয়ে তোলে কিন্তু রোগের কারণ নয়।
১। জেনেটিক কারণঃ যদি পরিবারের কারো অথবা পিতা মাতার এ রোগটি থাকে তাহলে তা বংশানুক্রমে হবার সম্ভাবনা থাকে কিন্তু বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই পারিবারিক ইতিহাস পাওয়া যায় না ।
২। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভিত্তিক কারণ
৩। সাধারণত ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দেহকে বিভিন্ন রোগ উৎপন্নকারী ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা করে । কিন্তু আইবিডি এর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ইমিউনিটি রেসপন্স বা সাড়া প্রদানের কারণে রোগজীবাণু না থাকা সত্ত্বেও ইমিউন সিস্টেম দেহের নিজস্ব পরিপাক নালির কোষকে আক্রমণ করে বসে । এ প্রক্রিয়াকে অটো ইমিউন রেসপন্স বলে । প্রদাহ কয়েক মাস থেকে বছর পর্যন্ত থেকে যায় ।

লক্ষন :

আইবিডি প্রদাহের তীব্রতা ও স্থান অনুযায়ী বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। আলসারেটিভ কোলাইটিস ও ক্রোনস ডিজিজ উভয় ক্ষেত্রেই যে ধরনের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় তা হলো –
১। ডায়রিয়া ।
২। বমি।
৩। জ্বর ও আলস্যভাব ।
৪। পেটে ব্যথা ও খিঁচুনি ।
৫। মলের সাথে রক্ত যাওয়া ।
৬। খাবারের রুচি কমে যাওয়া ।
৭। ওজন হ্রাস ।
৮। রক্ত স্বল্পতা ।

প্রকার অনুযায়ী ভিন্নতা :

আইবিডি এর ক্ষেত্রে পরিপাকতন্ত্রের বাইরে যে রোগগুলো হয়ে থাকে তা হলো :
১। চোখের প্রদাহ ।
২। চর্মরোগ ।
৩। আর্থ্রাইটিস বা বাত রোগ ।

ঝুঁকিপূর্ণ ফ্যাক্টর:

১। ধূমপান ।

২।যে কোনো বয়সে হতে পারে তবে ৩৫ বছরের পূর্বে শুরু হয় বেশি ।

৩। পরিবারের ভাই-বোন , বাবা- মা বা অন্যদের থাকলে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৪। শহরে ও শিল্প কারখানা ভিত্তিক দেশে যারা বাস করে তাদের ঝুঁকি বেশি ।

৫। যারা চর্বি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খায় ।

৬। শীত প্রধান দেশে এর প্রভাব বেশি। ৭। লিঙ্গ: এটি উভয় লিঙ্গের মানুষকে আক্রান্ত করে । তবে আলসারেটিভ কোলাইটিস পুরুষদের ক্ষেত্রে এবং ক্রোন’স ডিজিজ মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি হয় ।

জটিলতা সমূহ: স্থানীয় বা আন্ত্রিক

১। কোলনে মারাত্মক প্রদাহ যা জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ ।
২। অন্ত্র ছিদ্র হয়ে যাওয়া ।
৩। তীব্র রক্তক্ষরণ যা জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ ।
৪। ফিস্টুলা : অন্যত্র মধ্যস্থ ফিস্টুলা, অন্ত্র ও মূত্রথলির মধ্যকার ফিস্টুলা, যৌনির সাথে অন্য অঙ্গের ফিস্টুলা ।
৫। পায়ুপথ সংলগ্ন অ্যাবসেস , ফিসার।
৬। ক্যান্সার : ৮ বছর যাবৎ যাদের সক্রিয়ভাবে কোলাইটিস বা কোলনের প্রদাহ থাকে তাদের কোলন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে ।

তন্ত্রীয় অন্ত্র বহির্ভূত জটিলতা:

ক) আইবিডি এর সক্রিয় ধাপ চলাকালীন
১। কঞ্জাঙ্কটিভার প্রদাহ ।
২। আইরিসের প্রদাহ।
৩। এপিস ক্লোরিস এর প্রদাহ ।
৪। ফ্যাটি লিভার ।
৫। লিভারে অ্যাবসেস পোর্টাল শিরার রক্তে পূজ উৎপাদক জীবাণুর সঞ্চার।
৬। মেনেস্টারিক অথবা পোর্টাল শিরার থ্রম্বসিস বা রক্ত জমাট বদ্ধতা।
৭। শিরার রক্ত জমাট বদ্ধতা ।
৮। বৃহৎ সন্ধি সমূহের আর্থ্রালজিয়া বা প্রদাহ সম্পূর্ণ ব্যথা।
৯। ত্বকের নিচে অবস্থিত ফ্যাটস্তরের প্রদাহ ।
১০। টিস্যু পচে গিয়ে গভীর ক্ষত তৈরি হওয়া যায সাধারণত পায়ে হয় ।

খ) আইবিডি এর সক্রিয়তার সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় এমন।
১। অটোইমিউন হেপাটাইটিস।
২। পিত্তপাথুরী।
৩। বাইল ডাক্ট এ প্রদাহ এবং ক্ষত তৈরি হওয়া যা পরিবর্তনে নালিকে শুরু করে ফেলে এবং এর ফলে লিভার ড্যামেজ হয়।
৪। বাইল ডাক্ট ও লিভারের ক্যান্সার।

গ)অন্যান্য –
১। অপুষ্টি ।
২। ওজন-হ্রাস ।
৩। অন্ত্রের মধ্যকার প্রতিবন্ধকতা ।
৪। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে সংগঠিত শক ।
৫ । অতিরিক্ত ডায়রিয়ার কারণে সংগঠিত পানিস্বল্পতা ।

পরামর্শ :

জন্মগত কারণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় তবে এ রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমানোও প্রতিরোধ করা সম্ভব ।
১। স্বাস্থ্যসম্মত ও খাদ্য খাওয়া ।
২। নিয়মিত শরীরচর্চা করা ।
৩। ধূমপান বন্ধ করা ।

চিকিৎসা:

Syp.Marbelus 4+0+4
Tab. Dysni 2+0+2
S.Moya 1+0+1
Cap. Supat 2+0+2

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *