রিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস রোগের লক্ষণ,কারন,চিকিৎসা

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম সংক্ষেপে যাকে বলা হয় আইবিএস। এটি বৃহদন্ত্রের কার্যক্রমের একটি সাধারণ রোগ। সাধারণত মহিলারা পুরুষদের চেয়ে এ সমস্যায় বেশি ভোগেন। এক্ষেত্রে পেট কামড়ানো, পেট ব্যথা , পেটে গ্যাস হওয়া ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা উভয় সমস্যা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের সমস্যা গুলো হয়ে থাকে। আইবিএস হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা যা রোগীকে দীর্ঘদিন যাবৎ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তবে আইবিএস এর জন্য আন্তরিক টিস্যুর কোন পরিবর্তন হয়না বা কোলোরেক্টাল ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায় না।

প্রকারভেদ:

আইবিএস সাধারণত তিন প্রকার। যথাঃ

১। পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া প্রধান আইবিএস।
২। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রধান আইবিএস।
৩। কখনো পাতলা পায়খানা কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য কেন্দ্রিক আইবিএস।

রোগের কারন :

  • এ রোগের সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। তথাপি কোন একটা মাত্র নির্দিষ্ট কারণ এ রোগের জন্য দায়ী নয়।
  • ১। এটি অন্ত্রের কার্যকারিতার সমস্যা অর্থাৎ বৃহদান্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ব্যত্যয় ঘটলে এ সমস্যা দেখা দেয় । তবে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বৃহদান্ত্রে কোন ধরনের গাঠনিক এ্রুটি বা অসামঞ্জস্য দেখা যায় না।
  • ২। মানসিক ও সামাজিক সমস্যাঃ অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও মানসিক রোগ মানুষের পৌষ্টিক নালির স্বাভাবিক গতিকে পরিবর্তন করে। এ সমস্ত মানুষিক ও সামাজিক সমস্যার মধ্যে অতিরিক্ত চিন্তা- ভাবনা , অবসন্নতা , আতঙ্কিত হওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।৩। পৌষ্টক নালির স্বাভাবিক গতির পরিবর্তনঃ পৌষ্টক নালির স্বাভাবিক গতির পরিবর্তনের কারণে সাধারণত আইবিএস এর রোগীরা ডায়রিয়া অথবা কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে চিকিৎসকের কাছে এসে থকেন ।
  • ৪। পৌষ্টক নালির অস্বাভাবিক সংবেদনশীলতা ।
  • ৫। পৌষ্টিক নালির অভ্যন্তরীণ সমস্যাঃ শতকরা ১০-২০ ভাগ রোগীর আইবিএস রোগটি সাধারণত পৌষ্টিক৬ নালির প্রদাহ হওয়ার পরবর্তী সময়ে দেখা দেয়।
  • ৬। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় এ রোগটির জন্য তার দৈনন্দিন জীবনের কতগুলো খাবার প্রধানত দায়ী। যেমন: দুধ, দুধের তৈরি খাবার ( মিষ্টি ও মিষ্টান্ন ) , শশার সালাদ , গম ও গমের তৈরি বিভিন্ন প্রকার খাবার , অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার , মশলাদার খাবার , কফি, চকলেট, কোমল পানীয় ইত্যাদি।
  • ৭। খাবারের পরিমাণও এ রোগে অস্বস্তির কারণ। এক সাথে বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়াও এ রোগের যন্ত্রণা বাড়িয়ে দেয়।
  • ৮। সেরোটোনিন ও গ্যাস্ট্রিন নামক নিউরোট্রান্সমিটার এর প্রভাবে উক্ত সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করা হয়।
  • ৯। আন্তিক ব্যাকটেরিয়া ‘ মাইক্রোফ্লোরা ” এর পরিবর্তন ।
  • ১০। আন্তরিক প্রদাহ ।
  • ১১। খাদ্যনালী থেকে মস্তিষ্কে এবং মস্তিষ্ক থেকে খাদ্যনালীতে যে স্নায়বিক সংকেতগুলো আসা যাওয়া জরুরি, সে পথের কোথাও কোনো বিঘ্ন ঘটলে।
  • ১২। মেয়েদের মাসিক চলাকালীন সময়ে হরমোনের প্রভাবেও কখনো কখনো আইবিএস এর উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে।
  • ১৩। বংশগত কারণেও হতে পারে।

রোগের লক্ষন :

আইবিএস প্রকৃত অর্থে কোনো রোগ নয় , এটি কতগুলো লক্ষনের সমষ্টি।

পরিপাকতন্ত্রের লক্ষন –

১। প্রায়ই পেটে কামর ও মোচড় দিয়ে দিনে ৩-৪ বার নরম, পিচ্ছিল পায়খানা হওয়া ।
২। পায়খানার ধরনে পরিবর্তন। অর্থাৎ কখনও ডায়রিয়া কখনও কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা কখনো দুটোই হওয়া ।
৩। প্রায়ই পেটের ভিতর শব্দ অনুভূত হওয়া।
৪। খাওয়ার পর বদহজম হওয়া বা কিছু খেলেই অস্বস্তি ভাব ও গ্যাস হওয়া।
৫। খাবার পরই প্রচন্ড পায়খানার বেগ হওয়া , পেটে মোচড় দেওয়া ও ব্যথা অনুভূত হওয়া। সাধারণত মল ত্যাগের পর ব্যথা সেরে যায়।
৬। হঠাৎ করেই পায়খানার বেগ হয়ে তা তীব্র হয়ে যাওয়া।
৭। মলত্যাগের পরও পেট পরিষ্কার হয়নি এমন অনুভূত হওয়া।
তবে এ রোগে এত সমস্যার পরও পরীক্ষা – নিরীক্ষা করে অন্ত্রে তেমন কোন অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায় না।

পরিপাকতন্ত্রের বাইরের লক্ষন –
ক) গাইনি কোলজিক্যাঋ

১। ব্যথা যুক্ত ঋতু স্রাব ‌।
২। যৌনসঙ্গম পরবর্তী ব্যথা ‌।
৩। মেয়েদের মাসিক স্রাব আরম্ভের সময়ে মানসিক চাপ এবং দুশ্চিন্তা ।

খ) মূএতন্ত্রীয় –
১। বার বার প্রস্রাবের বেগ হওয়া ।
২। হঠাৎ করে প্রস্রাবের তীব্রবেগ ।
৩। রাএিকালে অতিরিক্ত প্রস্রাব ।
৪। মূএথলিতে মূএ রয়ে গেছে এমন অনুভূতি ।

গ) অন্যান্য –
১। পিঠে ব্যাথা ।
২। মাথা ব্যথা ।
৩। মুখের দুর্গন্ধ, মুখে অপ্রিতিকর স্বাদ।
৪। ঘুমের সমস্যা ।
৫‌। অবসাদ ।

পরামর্শ :

সাধারণত, খাদ্য ও দৈনন্দিন কাজ কর্মে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে আইবিএস জনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ‌। যেমন:

১। কফি , চা , সোডা পরিহার করতে হবে ।
২। প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে, যেমন : – তাজা ফল, শাকসবজি বাদাম , শস্যজাতীয় খাবার খেতে হবে।
৩। ধূমপান বর্জন করতে হবে।
৪। দুধ ও পনির জাতীয় খাবার কমাতে হবে ।
৫। একেবারে বেশি না খেয়ে অল্প করে বারে বারে খাবেন ।
৬। কোন খাবার খেলে আপনার আইবিএস এর সমস্যা বাড়ে তা স্বরন রাখলে আইবিএস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হবে ‌।
৭। সারাদিনের কাজের পর বা মানসিক চাপ দূর করার জন্য কিছু সময় বিশ্রাম গ্রহণ করুণ ।
৮। যদি ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার গ্রহণ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে থাকেন তাহলে তা অন্য কোনো উৎস থেকে নিতে পারেন । যেমন : ব্রকলি , পালং শাক , শালগম , টক দই , কাটা সহ স্যামন মাছ , সামুদ্রিক সার্ডিন মাছ , ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট ইত্যাদি খেতে পারেন ‌।

চিকিৎসা:

Syp. Marbeus 2+0+2
Syp. Holarant 2+0+2
Tab.Dysni 2+2+2
S.Moya 1+0+1

Hakim Md. Abdur Rashid
D.U.M.S Dhaka
Hamdard Laboratories (Waqf) Bangladesh
Mobile: 01866508440

1 thought on “ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস রোগের লক্ষণ,কারন,চিকিৎসা”

  1. ধন্যবাদ আপনার পরামর্শ গুলো ও রোগের কারণ লক্ষন চিকিৎসা খুব ভালো লাগে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *